পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত প্রাণী ‘জোনাথান’ এখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আইকন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা অদ্ভুত এই পৃথিবীর ইতিহাস নিয়ে যারা ঘাঁটাঘাঁটি করেন, তাদের কাছে কচ্ছপের দীর্ঘায়ুর গল্প নতুন কিছু নয়। তবে মানুষের গড় আয়ু যখন ৭০ থেকে ৮০ বছর, সেখানে এই পৃথিবীর বুকেই এমন এক জীব রয়েছে যে পার করে দিয়েছে প্রায় দুটি শতাব্দী! বলছি পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী স্থলচর প্রাণী জোনাথান কচ্ছপ (Jonathan the tortoise)-এর কথা। সম্প্রতি এই অনন্য রেকর্ডের জন্য তাকে ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আইকন’ (Guinness World Records ICON) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো প্রায় ২০০ বছর বয়সী এই জীবন্ত ইতিহাসের অবিশ্বাস্য কিছু তথ্য।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো প্রায় ২০০ বছর বয়সী এই জীবন্ত ইতিহাসের অবিশ্বাস্য কিছু তথ্য।
জোনাথান কে এবং সে কোথায় থাকে?
জোনাথান কচ্ছপ হলো একটি সেশেলস জায়ান্ট কচ্ছপ (Seychelles giant tortoise)। তার আনুমানিক জন্ম সাল ১৮৩২। সেই হিসেবে বর্তমান যুগে এসে তার বয়স দাঁড়িয়েছে ১৯৪ বছর। ১৮৮২ সালে যখন তাকে সেশেলস দ্বীপপুঞ্জ থেকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা (Saint Helena) দ্বীপে নিয়ে আসা হয়, তখনই সে ছিল একজন পূর্ণবয়স্ক কচ্ছপ। বর্তমানে সে সেন্ট হেলেনা দ্বীপের গভর্নরের সরকারি বাসভবন ‘প্ল্যান্টেশন হাউস’-এর মাঠে রাজকীয়ভাবে বসবাস করছে।
ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী
জোনাথানের এই দীর্ঘ জীবনকালের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে যে কেউ অবাক হতে বাধ্য। তার ১৯৪ বছরের জীবনে সে পৃথিবীর বহু ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে:
- ব্রিটিশ রাজবংশ: তার জীবনদশায় সে অন্তত ৮ জন ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী এবং ৩১ জন গভর্নরের শাসনকাল দেখেছে।
- বিশ্বযুদ্ধ ও রাজনীতি: মানব ইতিহাসের প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং প্রায় ৪০ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের উত্থান-পতন ঘটেছে তার চোখের সামনেই।
- প্রযুক্তির বিপ্লব: মানুষের তৈরি প্রথম টেলিফোন, মোটর গাড়ি, উড়োজাহাজ, আইফেল টাওয়ারের নির্মাণ থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক ইন্টারনেট যুগেরও সাক্ষী সে।
মৃত্যু গুঞ্জন ও তার বর্তমান স্বাস্থ্য
সম্প্রতি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ জোনাথানের মৃত্যুর একটি ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পরে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি স্ক্যাম বা প্রতারণা হিসেবে প্রমাণিত হয়। তবে সেন্ট হেলেনা সরকার (St Helena Government) দ্রুত নিশ্চিত করে যে জোনাথান সম্পূর্ণ সুস্থ এবং বেঁচে আছে।
বয়সের ভারে জোনাথান এখন ছানির কারণে চোখে দেখতে পায় না এবং তার ঘ্রাণশক্তিও লোপ পেয়েছে। তবে তার শ্রবণশক্তি এখনো অত্যন্ত প্রখর। সে তার কেয়ারটেকারদের গলার আওয়াজ খুব সহজেই চিনতে পারে এবং প্রতিদিন আপেল, কলা, গাজর ও শসা খেতে ভালোবাসে।
বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু
সাধারণত এই প্রজাতির কচ্ছপের গড় আয়ু হয়ে থাকে ১৫০ বছর। কিন্তু জোনাথান ইতোমধ্যে তার প্রজাতির স্বাভাবিক আয়ুকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে জোনাথানের ডিএনএ (DNA) এবং কোষের গঠন নিয়ে গবেষণা করছেন। মানুষের কোষের মতো তার কোষগুলো সহজে মিউটেট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এই রহস্য উদঘাটন করতে পারলে মানুষের বার্ধক্য রোধ এবং দীর্ঘায়ু পাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
প্রকৃতির এক অনন্য এবং পরম বিস্ময় এই জোনাথান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের এই আইকন যেন আরও বহু বছর আমাদের মাঝে বেঁচে থাকে, সেই কামনাই রইল।