আজব খবর: সিনেমার গল্পকেও হার মানালো! ১২ বছরের শিশু সেজে পরিবার ও চার্চকে ঠকালো ৩৭ বছরের নারী
বাস্তব নাকি হলিউড সিনেমা ‘দ্য অরফ্যান’? ব্রাজিলে ১২ বছরের শিশু সেজে প্রতারণা করার একটি ঘটনা পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে! ১২ বছরের এক অসহায় শিশু সেজে টানা ১৪ মাস একটি চার্চ ও পরিবারকে বোকা বানিয়ে রেখেছিল ৩৭ বছর বয়সী এক নারী। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এই মহাপ্রতারক।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ‘মুক্ত পৃথিবী’-এর আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে, কীভাবে এই অবিশ্বাস্য প্রতারণার জাল বিছানো হয়েছিল।
🍼 যেভাবে শুরু হয়েছিল প্রতারণা
ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলের সান্তা ক্যাটরিনা রাজ্যের জইনভিল শহরে। আমান্ডা মারিয়া সুজা ডি অলিভেইরা (Amanda Maria Souza de Oliveira) নামের এই ৩৭ বছর বয়সী নারী নিজেকে ‘গ্যাব্রিয়েল’ নামে একজন ১২ বছরের শিশু হিসেবে পরিচয় দেন। সে প্রথমে স্থানীয় একটি চার্চের পাস্টরের কাছে গিয়ে দাবি করে যে, সে তার পরিবারে চরম নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছে।
তার এই করুণ গল্প শুনে চার্চের সদস্যরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তাকে আর্থিক সাহায্য করার পাশাপাশি একটি নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
🧸 ফিডার খাওয়া থেকে পুতুলের ঘর: চরম অভিনয়!
পরিবারটি তাকে নিজেদের মেয়ের মতো আপন করে নেয়। সন্দেহ এড়াতে আমান্ডা চতুরতার সাথে এমন সব আচরণ করতে শুরু করে যা সবাই বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়:
- শিশুসুলভ আচরণ: সে নিয়মিত মুখে চুষনি (Pacifier) ব্যবহার করত, ফিডারে করে দুধ খেত এবং শিশুদের খেলনা দিয়ে খেলত।
- ১২ বছরের জন্মদিনের কেক কাটা: পরিবারটি তাকে এতটাই ভালোবাসত যে, ধুমধাম করে তার ‘১২তম জন্মদিন’ উদযাপন করে কেকও কেটেছিল!
- ঘর সাজানো: তার জন্য শোবার ঘরটি রঙ-বেরঙের খেলনা এবং শিশুদের আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
🤨 বয়স্ক চেহারার পেছনে অদ্ভুত অজুহাত!
১২ বছর বয়সী শিশুর মতো শরীর বা চেহারা না হওয়া সত্ত্বেও পরিবারটি কেন সন্দেহ করেনি? এখানেই ছিল আমান্ডার আসল কারসাজি। সে পরিবারটিকে বুঝিয়েছিল যে, সে অটিজম (Autism) আক্রান্ত। একই সাথে সে দাবি করে, ছোটবেলায় বাবার নির্যাতনের কারণে তাকে জোর করে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তার বয়স কম হলেও চেহারা বড়দের মতো দেখায়। সরল বিশ্বাসে পরিবারটি তার চিকিৎসার সব খরচও বহন করছিল।
🔍 যেভাবে ফাঁস হলো আসল সত্য
টানা ১৪ মাস মেয়ের মতো লালন-পালন করার পর পরিবারটি যখন তাকে আইনিভাবে দত্তক (Legal Adoption) নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে, তখন এক আত্মীয়ের মনে খটকা লাগে। তিনি ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখতে পান, এই একই নারী এর আগে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো এবং সাও পাওলো সহ প্রায় ৭টি রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন নাম (যেমন: মারিয়া এদুয়ার্দা, আনা ক্লারা) ব্যবহার করে একই ধরনের প্রতারণা করেছে!
এমনকি একটি ঘটনায় সে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নিজের শরীরে প্রায় ১০০ থেকে ২০০টি সুচ পর্যন্ত ফুটিয়ে রেখেছিল!
🚓 অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার
আসল সত্য জানার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে গত জুন মাসে (২০২৬) পুলিশ ওই পরিবারের বাড়ি থেকেই আমান্ডাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। বর্তমানে সান্তা ক্যাটরিনার একটি কারাগারে সে বন্দি রয়েছে এবং তার মানসিক সুস্থতা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।
মুক্ত পৃথিবীর পাঠকদের জন্য শেষ কথা:
সহানুভূতির সুযোগ নিয়ে এমন ভয়ংকর প্রতারণা সত্যিই সমাজকে ভাবিয়ে তোলে। এই ঘটনাটি নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান। প্রতিদিন এমন সব রোমাঞ্চকর ও আজব খবরের আপডেট পেতে মুক্ত পৃথিবী-এর সাথেই থাকুন!
[পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন!]