লালবাগ কেল্লার অভিশপ্ত সুড়ঙ্গ: যেখানে মানুষ ঢুকলে আর ফেরে না! জেনে নিন পর্দার আড়ালের হাড়হিম করা সত্য
ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা মোঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন লালবাগ কেল্লা। দিনের আলোতে এর সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করলেও, রাতের আঁধারে এই কেল্লা ধারণ করে এক গা ছমছমে রূপ। বিশেষ করে এখানকার একটি রহস্যময় গোপন সুড়ঙ্গ নিয়ে রয়েছে শত বছরের পুরনো আতঙ্ক। ‘মুক্ত পৃথিবী’-র আজকের ব্লগে আমরা উন্মোচন করব লালবাগ কেল্লার সেই নিষিদ্ধ সুড়ঙ্গের রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

🏛️ সুড়ঙ্গের পেছনের ইতিহাস: কেন এটি তৈরি হয়েছিল?
১৬৭৮ সালে মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র যুবরাজ মুহাম্মদ আজম এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, যুদ্ধবিগ্রহের সময় মোঘল সৈন্যরা যাতে গোপনে ও নিরাপদে দিল্লি বা অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশ দিয়ে এই সুড়ঙ্গ পথটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এই সুড়ঙ্গটিই হয়ে ওঠে এক আতঙ্কের নাম।
☠️ দুটি ঘটনা: যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল ব্রিটিশদের বুক
লালবাগ কেল্লার এই গোপন সুড়ঙ্গ নিয়ে ব্রিটিশ আমলে দুটি হাড়হিম করা ঘটনা ঘটে, যার পর থেকে এটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়:
- শিকারী কুকুরের রহস্যময় নিখোঁজ: সুড়ঙ্গের ভেতরে আসলে কী আছে তা জানার জন্য ব্রিটিশ গবেষকরা প্রথমে শক্তিশালী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েকটি শিকারী কুকুরকে শিকল দিয়ে বেঁধে ভেতরে পাঠান। কিন্তু ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুকুরের চিৎকার শোনা যায়। পরে শিকল টেনে দেখা যায়, শুধু শিকলটাই ফিরে এসেছে, কুকুরগুলোর কোনো হদিস নেই!
- ব্রিটিশ সৈন্যদের করুণ পরিণতি: কুকুরের ঘটনার পর কৌতূহলী একদল ব্রিটিশ সৈন্য মশাল ও অস্ত্র নিয়ে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে। সুড়ঙ্গের বাইরে থাকা বাকি সৈন্যরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও, ভেতরে যাওয়া সৈন্যরা আর কোনোদিন আলোতে ফিরে আসেননি। সুড়ঙ্গের অন্ধকার যেন তাদের জ্যান্ত গিলে খেয়েছিল!
👻 বর্তমানের অলৌকিক ঘটনা ও কেল্লার রক্ষীদের দাবি
বিজ্ঞানীরা সুড়ঙ্গের ভেতরের বিশেষ গ্যাস বা অন্ধকারের কথা বললেও, স্থানীয় মানুষ এবং কেল্লার নৈশপ্রহরীদের মুখে আজও শোনা যায় কিছু অলৌকিক ঘটনা:
- ঘোড়ার খুরের আওয়াজ: অমাবস্যার রাতে নাকি কেল্লার নির্জন চত্বরে অদৃশ্য ঘোড়ার খুরের আওয়াজ এবং তরবারির ঝনঝনানি স্পষ্ট শোনা যায়।
- পরী বিবির মায়াবী কান্না: অনেকের দাবি, গভীর রাতে কেল্লার দরবার হল থেকে লাল শাড়ি পরিহিত এক রূপবতী নারীকে বের হতে দেখা যায়। মোঘল সুবাদার শায়েস্তা খানের প্রয়াত কন্যা ‘পরী বিবি’-র আত্মা বলে মনে করা হয় তাকে।
- ভারী বাতাসের অনুভূতি: বর্তমানে সুড়ঙ্গের মুখটি লোহার শক্ত গেট দিয়ে সিলগালা করা। তবে এর পাশে দাঁড়ালেই এক অদ্ভুত ভারী এবং ভুতুড়ে ঠান্ডা বাতাস অনুভব করা যায়।
📢 ‘মুক্ত পৃথিবী’র শেষ কথা
লালবাগ কেল্লার এই সুড়ঙ্গটি কি আসলেই কোনো অলৌকিক শক্তির বাসা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো বৈজ্ঞানিক রহস্য? এর সঠিক উত্তর হয়তো কোনোদিনও জানা যাবে না। তবে এই রহস্যই লালবাগ কেল্লাকে করে তুলেছে আরও বেশি আকর্ষণীয়।
“ইতিহাসের কিছু পাতা অন্ধকারেই সুন্দর, তাকে আলোতে আনার চেষ্টা করলে কেবল ধ্বংসই নেমে আসে।”
💬 আপনার মতামত জানান: আপনি কি কখনো লালবাগ কেল্লায় গিয়েছেন? এই সুড়ঙ্গের সামনে দাঁড়িয়ে আপনার কেমন লেগেছিল? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান! এই রকম আরও গা ছমছমে পোস্ট পেতে ‘মুক্ত পৃথিবী’-র সাথেই থাকুন।