facebook twitter linkedin myspace tumblr google_plus digg etsy flickr Pinterest stumbleupon youtube

সাহাবারা যেসব প্রশ্ন রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) – কে করতেন

মুহাম্মদ (সাঃ)হলেন ইসলামের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামী বিশ্বাস মতে আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত সর্বশেষ নবী তাঁতে কোন সন্দেহ নাই। রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) কে সাহাবারা অসংখ্য প্রশ্ন করেছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) – সেগুলোর উত্তরও দিয়েছিলেন। ‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পক্ষ হতে (মানুষের কাছে) একটি বাক্য হলেও পৌঁছিয়ে দাও।

সাহাবারা যেসব প্রশ্ন রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) - কে করতেন

এখানে সাহাবাদের প্রশ্নের মধ্যে ২৫ টি প্রশ্ন সহ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর উত্তরসহ দেওয়া হল।যা আপনার এবং আপনার নিকটতম লোকজনের কাজে আসবে (যাতে ইহকাল এবং পরকাল দুটির কল্যাণ নিহিত আছে)।

আরো পড়ুনঃ পবিত্র রমজান মাসে সেহরি এবং ইফতারে জন্য বিশ্বের জনপ্রিয় কিছু খাবার

১. প্রশ্নঃ আমি ধনী হতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, অল্পতুষ্টি অবলম্বন কর; ধনী হয়ে যাবে।
২. প্রশ্নঃ আমি সবচেয়ে বড় আলেম (ইসলামী জ্ঞানের অধিকারী) হতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, তাক্বওয়া (আল্লাহ্ ভীরুতা) অবলম্বন কর, আলেম হয়ে যাবে।
৩. প্রশ্নঃ সম্মানী হতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, সৃষ্টির কাছে চাওয়া বন্ধ কর; সম্মানী হয়ে যাবে।
৪. প্রশ্নঃ ভাল মানুষ হতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, মানুষের উপকার কর।
৫. প্রশ্নঃ ন্যায়পরায়ণ হতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, যা নিজের জন্য পছন্দ কর; তা অন্যের জন্যেও পছন্দ কর।
৬. প্রশ্নঃ শক্তিশালী হতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, আল্লাহর উপর ভরসা কর।
৭. প্রশ্নঃ আল্লাহর দরবারে বিশেষ মর্যাদার অধিকরী হতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, বেশী বেশী আল্লাহকে স্মরণ (জিকির) কর।
৮. প্রশ্নঃ রিযিকের প্রশস্ততা চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, সর্বদা অযু অবস্থায় থাকো।

আরো পড়ুনঃ রাসূল (সাঃ) এর বাণী চিরন্তন !!

৯. প্রশ্নঃ আল্লাহর কাছে সমস্ত দোয়া কবুলের আশা করি!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, হারাম খাবার হতে বিরত থাকো।
১০. প্রশ্নঃ ঈমানে পূর্ণতা কামনা করি!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, চরিত্রবান হও ৷
১১. প্রশ্নঃ কেয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে গুনামুক্ত হয়ে সাক্ষাৎ করতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, জানাবত তথা গোসল ফরজ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে নাও।
১২. প্রশ্নঃ গুনাহ্ কিভাবে কমে যাবে?
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, বেশী বেশী ইস্তেগফার (আল্লাহর নিকট কৃত গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা) কর।
১৩. প্রশ্নঃ কেয়ামত দিবসে আলোতে থাকতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, জুলুম করা ছেড়ে দাও।
১৪. প্রশ্নঃ আল্লাহ্ তা’য়ালার অনুগ্রহ কামনা করি!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, আল্লাহর বান্দাদের উপর দয়া-অনুগ্রহ কর।
১৫. প্রশ্নঃ আমি চাই আল্লাহ্ তা’য়ালা আমার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখ।
১৬. প্রশ্নঃ অপমানিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে চাই ?
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, যিনা (ব্যভিচার) থেকে বেঁচে থাকো।
১৭. প্রশ্নঃ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) এর নিকট প্রিয় হতে চাই ?
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, যা আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) এর নিকট পছন্দনীয় তা নিজের জন্য প্রিয় বানিয়ে নাও।
১৮. প্রশ্নঃ আল্লাহর একান্ত অনুগত হতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, ফরজ সমূহকে গুরুত্বের সহিত আদায় কর।

আরো পড়ুনঃ আল-কোরআন – এর বানী

১৯. প্রশ্নঃ ইহ্সান সম্পাদনকারী হতে চাই!
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, এমন ভাবে আল্লাহর এবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ অথবা তিনি তোমাকে দেখছেন।
২০. প্রশ্নঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ্‌! (সাঃ) কোন বস্তু গুনাহ্ মাফে সহায়তা করবে?
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন,
ক) কান্না। (আল্লাহর নিকট, কৃত গুনাহের জন্য)
খ) বিনয়।
গ) অসুস্থতা।
২১. প্রশ্নঃ কোন জিনিষ দোযখের ভয়াবহ আগুনকে শীতল করবে?
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, দুনিয়ার মুছিবত সমূহ।
২২. প্রশ্নঃ কোন কাজ আল্লাহর ক্রোধ ঠান্ডা করবে?
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, গোপন দান এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।
২৩. প্রশ্নঃ সবচাইতে নিকৃষ্ট কি?
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, দুশ্চরিত্র এবং কৃপণতা।
২৪. প্রশ্নঃ সবচাইতে উৎকৃষ্ট কি?
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, সচ্চরিত্র, বিনয় এবং ধৈর্য্য।
২৫. প্রশ্নঃ আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচার উপায় কি?
উঃ রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করলেন, মানুষের উপর রাগান্বিত হওয়া পরিহার কর।

আরো পড়ুনঃ আল্লাহ্‌ তায়ালার আটটি (৮) বাণী

আল্লাহ্ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে উপরোক্ত আমলগুলো মেনে চলার তৌফিক দান করুক –আমিন।

রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর একটি হাদিস আছে যেখানে বলা হয়েছে “তোমার ঈমানকে খাঁটি কর, অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হইবে”।



সম্পর্কিত পোস্টসমূহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!