🛑 শান্তি যেখানে অধরা: ২০২৬ সালের বাস্তবতায় পৃথিবীর সবচেয়ে অস্থিতিশীল ৫টি দেশ
২০২৬ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (GPI) অনুযায়ী, ক্রমাগত যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং শান্তি হারিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিবেদনে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ৫টি দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
১. রাশিয়া (Russia): বিশ্বমঞ্চে এক নতুন অশান্তির ভরকেন্দ্র
২০১৪ সালে যে রাশিয়া বিশ্ব রাজনীতিতে ভিন্ন অবস্থানে ছিল, ২০২৬ সালে এসে সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে অশান্তিময় দেশের তালিকায় ১ম স্থানে নেমে এসেছে।

- যুদ্ধে লিপ্ত থাকা: ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২৬ সালেও নানা মাত্রায় চলমান। এর ফলে বিশাল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা দেশটিকে স্থবির করে দিয়েছে।
- অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন: যুদ্ধবিরোধী যেকোনো কণ্ঠস্বর কঠোরভাবে স্তব্ধ করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ক্র্যাকডাউন এবং সামরিক খসড়া বা বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের ফলে সাধারণ নাগরিকদের জীবন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
- পারমাণবিক উত্তেজনা: বিশ্বের সাথে ক্রমাগত বাকযুদ্ধ এবং শক্তির প্রদর্শন দেশটিকে নিজের ভেতরের ও বাইরের দিক থেকে সম্পূর্ণ অশান্ত করে তুলেছে।
২. ইউক্রেন (Ukraine): ক্ষতবিক্ষত এক জনপদ
রাশিয়ার আগ্রাসনের শিকার হয়ে ইউক্রেন আজ বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং অশান্ত দেশ।

- অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ: দেশের বড় বড় শহর, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক হাবগুলো দীর্ঘস্থায়ী হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত।
- মানবিক বিপর্যয়: লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে শরণার্থী হয়েছেন এবং দেশের ভেতরে যারা আছেন, তারা প্রতিনিয়ত সাইরেন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
- ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা: ২০২৬ সালেও একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি অধরা থাকায় দেশের সাধারণ জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ব্যাহত।
৩. সুদান (Sudan): ক্ষমতার লড়াইয়ে পিষ্ট সাধারণ মানুষ
গত কয়েক বছরে সুদানের সামরিক বাহিনী (SAF) এবং আধাসামরিক বাহিনী Rapid Support Forces (RSF)-এর মধ্যে শুরু হওয়া ক্ষমতা দখলের লড়াই ২০২৬ সালেও দেশটিকে নরকে পরিণত করে রেখেছে।

- গৃহযুদ্ধ এবং অরাজকতা: রাজধানী খার্তুমসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলার কোনো বালাই নেই। সশস্ত্র দলগুলো নিজেদের মধ্যে এলাকা দখলের লড়াইয়ে মত্ত।
- দুর্ভিক্ষ ও অনাহার: যুদ্ধক্ষেত্রের কারণে আন্তর্জাতিক ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে পারছে না। ফলে ২০২৬ সালের অন্যতম বৃহত্তম দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বর্তমানে সুদানে বিরাজ করছে।
৪. ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (DR Congo): দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত
আপনার ২০১৪ সালের তালিকায় এই দেশটি ৩য় স্থানে ছিল। আফসোসের বিষয় হলো, এক দশক পেরিয়ে ২০২৬ সালেও দেশটির পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

- খনিজ সম্পদের অভিশাপ: কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে কোবাল্ট এবং সোনার খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে শত শত বিদ্রোহী গোষ্ঠী সক্রিয়। এর পেছনে বিদেশি কিছু স্বার্থান্বেষী মহলেরও হাত রয়েছে।
- গণধর্ষণ ও সহিংসতা: এই অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়, যার ফলে লাখ লাখ মানুষ নিজ দেশেই বাস্তুচ্যুত (Internal Refugees)।
৫. ইয়েমেন (Yemen): একটি ভুলে যাওয়া মানবিক সংকট
মাঝে কিছুটা যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার কারণে ইয়েমেন এখনো চরম অশান্ত।

- ছায়াযুদ্ধের প্রভাব: হুথি বিদ্রোহী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যকার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর ধরে পিষ্ট হচ্ছে।
- চিকিৎসা ও খাদ্যের অভাব: কলেরা মহামারী এবং তীব্র অপুষ্টির কারণে ইয়েমেনের শিশুদের পরিস্থিতি বিশ্বের সবচেয়ে করুণ দৃশ্যগুলোর একটি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান ভূরাজনীতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, বৈশ্বিক অশান্তি এখন আর শুধু অভ্যন্তরীণ দারিদ্র্য বা আঞ্চলিক দাঙ্গার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং পরাশক্তিগুলোর যুদ্ধ আগ্রাসন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার পুরো বিশ্বের নিরাপত্তাকে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।