facebook twitter linkedin myspace tumblr google_plus digg etsy flickr Pinterest stumbleupon youtube

শবে বরাতের ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত – (২)

শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা ও পরদিন রোজা রাখাঃ
হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন, এতে তিনি এমন দীর্ঘ সেজদা করলেন যে, আমার ধারণা হল তিনি মারাই গিয়েছেন। আমি যখন অবলোকন করি, তখন নবীজি (সাঃ) এর বৃদ্ধাঙ্গুলিতে নাড়া দেই। এতে করে তাকে সচেতন বুঝতে পারি। আমার বিশ্বাস হল তিনি জীবিত আছেন। অতঃপর নিজ বিছানায় ফিরে এলাম। তিনি সেজদা থেকে মাথা উঠালেন।
নামাজ সমাপ্ত করে তিনি আমাকে বললেন, হে আয়শা! তোমার কি ধারণা হয়েছে? নবী কী তোমার সাথে সীম লঙ্ঘন করেছেন? আমি বলি, জি না, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) তবে আপনার দীর্ঘ সেজদার কারণে আমার মনে হয়েছে আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অতঃপর মহানবী (সাঃ) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি জান আজকের এ রাতটি কোন রাত? আমি বললাম আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। নবীজি (সাঃ) বললেন, এ রাতটি মধ্য শাবানের রাত (শবে বরাত)। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের প্রতি করুণার বিশেষ দৃষ্টি দেন। অনুগ্রহ প্রার্থীদের দয়া করেন, তবে হিংসুক ব্যক্তিদের স্বীয় অবস্থার উপর ছেড়ে দেন।
(বায়হাকী শুয়াবুল ঈমান ৩/৩৮৩,হাঃ নং ৩৮৩৫, আততারগীব ওয়াত তারহীব ২/৭৩-৭৪)

সুনানে ইবনে মাজায় হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন- পনের শাবানের রাত যখন আসে, তোমরা এই রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ্‌ তা’য়ালা প্রথম আসমানে আসেন আর বলেন, “কোন ক্ষমাপ্রার্থী আছো কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোনো রিযিক অন্বেষণকারী আছো কি? আমি তাকে রিযিক প্রদান করব।
আছে কি কোন রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।”
(ইবনে মাযাহ পৃ-৯৯, হাঃ নং ১৩৮৮)

হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে এক রাতে বিছানায় পাইনি। তখন অনেক খোঁজ করার পর তাকে জান্নাতুল বাক্বীতে (কবরস্থান) পাই। এমতাবস্থায় কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মধ্য শাবান বা শাবানের পঞ্চদশ রাতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে আগমন করেন এবং বনু কালব গোত্রের ছাগল/ ভেড়ার পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে তিনি ক্ষমা করে দেন।
(তিরমিজী ১/১৫৬, হাঃ নং ৭৩৯, ইবনে মাযাহ পৃঃ ৯৯, হাঃ নং ১৩৮৯)।

এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় শবে বরাতে কবরস্থানে যাওয়াও একটি উল্লেখযোগ্য আমল। অনেকের গবেষণা মতে ওই রাতে কবরস্থানে যেয়ে মৃতব্যক্তিদের জন্য মাগফিরাত ও মুক্তির কামনা করা মুস্তাহাব ও একটি ভাল কাজ।
(ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩৫০)

ইবাদত করতে হবে নির্জনেঃ
এ বিষটি মনে রাখতে হবে, এ রাতের আমলসমূহ বিশুদ্ধ মতানুসারে সম্মিলিত নয়; নির্জনে একাকীভাবে করণীয়। পুরুষদের জন্য তো ফরয নামাজ অবশ্যই মসজিদে আদায় করতে হবে। তারপর তারা এবং মহিলারা যা কিছু নফল পয়রার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বেন। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার কোন প্রমাণ হাদীসে নেই। আর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। (ইকতিযাউস সিরাতুল মুস্তাকিম,২য় খন্ড-৬৩১পৃ, মারাকিল ফালাহ-২১৯পৃ )

তবে কোন ঘোষণা ও আহবান ছাড়া এমনিতেই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যান, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবেন। একে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হওয়া যাবে না। শাইখুল ইসলাম মুফতী তাকী উসিমানী ( দামাম বারকাতুম ) বলেন, ইমাম আযম আবু হানীফা ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) বলেছেন, নফল ইবাদত এমনভাবে করবে যে, সেখানে কেবল তুমি আছ, আর আছেন আল্লাহ। তৃতীয় কেউ নেই। সুতরাং, যে কোন নফল ইবাদতের ক্ষেত্রেই শরীয়তের অন্যতম মূলনীতি হল, তাতে জামাআত করা মাকরুহে তাহরীমী ও নিষিদ্ধ। ( ইসলাহী খুতুবাত, ৪র্থ খণ্ড-২৬৮পৃ )

হযরত আশরাফ আলী থানভী ( রহমতুল্লাহি আলাইহি )-এর মতঃ
তিনি বলেন হাদীসে শবে বরাতের তিনটি কাজ সুন্নত মত করাকে সওয়াব ও বরকত লাভের উপায় বলা হয়েছে। প্রথমতঃ পনেরো তারিখ রাতে কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া ও ইস্তেগফার করা। সাথে সাথে গরীব মিসকীনদের কিছু দান করে সে দানের সওয়াবটুকু ঐ মৃতদের নামে বখশে দিলে আরও ভাল হয়। সেই মুহূর্তে হাতে না থাকলে, অন্য সময় গোপনে কিছু দান করে দেওয়া উচিত। দ্বিতীয়তঃ রাত জেগে একা একা বা বিনা আমন্ত্রণে জড়ো হয়ে যাওয়া দু চারজনের সাথে ইবাদতে মশগুল থাকা। তৃতীয়তঃ শাবানের পনেরো তারিখ নফল রোযা রাখা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরর সকলকে আমল করার তৌফিক দান করুন।


সম্পর্কিত পোস্টসমূহ

শবে বরাতের ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত

শবে বরাতের ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত – (১)

Allah আল্লাহ্‌

আল্লাহ্‌ তায়ালার আটটি (৮) বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!